ওয়েব ডেস্ক: ১৬ বছর বয়সি কিশোরকে আত্মহত্যার পরামর্শ চ্যাটজিপিটির (Chatgpt)। ওপেন এআই-এর বিরুদ্ধে মামলা করল মৃত কিশোরের বাবা-মা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি মানুষ মারার কল? উঠছে প্রশ্ন।
সূত্রের খবর, ওপেন এআই এবং তার সিইও স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ১৬ বছরের অ্যাডাম রেনের বাবা-মা। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, চ্যটজিপিটির জন্যই তাঁদের সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া সুপিরিয়র আদালতে তাঁরা জানিয়েছেন, অ্যাডামকে আত্মহত্যায় শুধু প্ররোচনা দেওয়াই নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত ওই চ্যাটবট নিজেকে তার ছেলের ঘনিষ্ঠতম বন্ধু তৈরি করেছিল। ধীরে ধীরে অ্যাডামকে তাঁর পরিবার এবং বন্ধুদের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল ওই চ্যাটবট।
আরও পড়ুন: ফের মাও দমনে সাফল্য, মহারাষ্ট্রে খতম ৪ মাও নেতা
তাঁদের আরও অভিযোগ, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অ্যাডাম চ্যাটজিপিটি ব্যবহার শুরু করে। স্কুলে দেওয়া কাজ ঝটপট সেরে ফেলা, গান-বাজনা, ব্রাজিলিয়ান জুজুৎসু এবং জাপানি ফ্যান্টাসি কমিক্স সম্পর্কে তাঁর নেশায় সাহায্যের স্বার্থে। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁর কথাবার্তার ধরন বদলাতে শুরু করে। তাঁর আচরণে উদ্বেগ অবসাদ ছাড়াও আত্মহত্যার প্রবণতা ধরা পড়ে। চ্যাটজিপিটি এর কোনও সমাধান না করে বরং তাকে আরও অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়।
এই সমস্যার ভয়াবহতা আদালতে জানান মৃতের বাবা-মায়ের আইনজীবী মিতাল জৈন। তিনি জানান, আত্মহত্যা শব্দটি অ্যাডাম প্রায় ২০০ বার ব্যবহার করেছে। অন্যদিকে, জবাবে চ্যাটজিপিটি ওই শব্দটি ব্যবহার করেছে প্রায় ১২০০ বার। কিন্তু কখনই এমন উদ্বেগজনক কথোপকথন বন্ধ হয়নি। উল্টে আত্মহত্যা কিভাবে করতে হয় তার বিস্তৃত নির্দেশ দিতে থেকেছে। কিভাবে ফাঁস লাগাতে হয়, তা আত্মহত্যার দিন ছবিসহ পাঠিয়েছে।
উল্লেখ্য, এই মর্মান্তিক ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালিত চ্যাটবট কীভাবে ব্যবহারকারীর সঙ্গে আবেগজনিত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে! সহায়তা করার উদ্দেশ্যে তৈরি এই ব্যবস্থা অনিচ্ছাকৃতভাবে হলেও ভয়ঙ্কর ফাঁদ তৈরি করছে। খারাপ চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসার রাস্তা দেখানোর পরিবর্তে সেই পথেই ব্যবহারকারীকে ঠেলে দিচ্ছে। মনোবিদ সহ অন্যান্যরা জানাচ্ছেন, শিশু-কিশোর এবং অল্প বয়স্কদের মধ্যে এর ফলে মানবিক সম্পর্ক থেকে সরে আসার প্রবণতা বাড়ছে। শুধুমাত্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গ ভালো লাগার জন্য। তাই অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা নিষিদ্ধ হওয়া উচিত বলে তাঁদের অভিমত।